দুরন্ত প্রতিবেদন : তিন জন তিন রঙের। তিন জনের মতাদর্শও তিন রকমের। তিনজনেই শিলিগুড়ির মেয়র পদ সামলেছেন। তৃণমূলের গৌতম দেব এখনও মেয়র পদেই আছেন। বাকি দু’জন বামপন্থী অশোক ভট্টাচার্য ও কংগ্রেসের গঙ্গোত্রী দত্ত। এই তিন মতের মানুষকে শেষমেশ মিলিয়ে দিল ‘নাটক’। ২০০১ সাল থেকে যে নাট্যমেলার পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন অশোক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার দীনবন্ধু মঞ্চে সেই নাট্যমেলার উদ্বোধনে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করলেন মেয়র গৌতম দেব। তাঁর ঠিক পাশে বসে নাট্যমেলার সাফল্য কামনা করলেন প্রাক্তন মেয়র গঙ্গোত্রী দত্ত। আর সকলে মিলে বুঝিয়ে দিলেন এটাই শিলিগুড়ি। এটাই এই শহরের ঐতিহ্য। নাট্যপ্রেমীরা মানুষেরা তাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভুলে গেলেন তিনজন ভিন্ন ভিন্ন শিবিরের রাজনৈতিক নেতা। বরং সকলকে নাটকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আপন করে নিলেন। মঞ্চে সব অতিথিকে অভ্যর্থনা জানানোর পর যখন ভুলবশত গঙ্গোত্রী দত্তকে অভ্যর্থনা জানাতেই ভুলে গেলেন আয়োজকরা, তখন গোটা মঞ্চের দর্শকেরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে ভুল শুধরে নিতে সরব হলেন। এরপরই উদ্বোধক অভিনেতা ও নাট্যকার দেবাশিসের সঙ্গে নাট্যমেলা উদ্বোধনে হাত বাড়ালেন। শুধু উদ্বোধন করেই বেরিয়ে গেলেন না মেয়র গৌতম দেব। বরং অশোক-গঙ্গোত্রীর পাশে বসেই পরিচালক দেবাশিসের নাটক ‘প্রথম রাজনৈতিক হত্যা’ দেখলেন নিজস্ব কর্মসূচি বাদ দিয়ে। এখানেই যেন শিলিগুড়ির নাট্যমেলা সার্থক হল।

এদিনের উদ্বোধনে ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি তাপস সরকার, ডাঃ মলয় চক্রবর্তী, নাট্যমেলার মুখ্য পৃষ্ঠপোষক ড. সঞ্জীবন দত্তরায়, সভাপতি ড. তপন চট্টোপাধ্যায়, সম্পাদক পল্লব বসু প্রমুখ। নাট্যমেলা কমিটির সম্পাদক পল্লব বসু জানান,‘শিলিগুড়ির এই নাট্যমেলা এবারে ২৩ বছরে পা দিল। কোভিড পরিস্থিতির জন্য দু’বছর ছিল। এবারে তাই ২১তম নাট্যমেলা। ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। কলকাতার ৭টি ও শিলিগুড়ির ২টি মিলিয়ে মোট ৯টি নাটক প্রদর্শিত হবে।





