বনানী বিশ্বাস, শিলিগুড়ি : বিগত ৯ বছরে বাংলার হস্তশিল্পীরা শুধুমাত্র মেলা থেকেই প্রায় ৬০০ কোটি টাকা উপার্জন করেছে বলে জানিয়েছেন, রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র দপ্তরের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। শিলিগুড়ি হস্তশিল্প মেলার উদ্বোধনে এসে তিনি জানান,‘গত ৯ বছরে আমরা ৪৯৯টি মেলার আয়োজন করেছিলাম এবং অংশ নিয়েছিলাম। এর মধ্যে রাজ্যে ৪৩১টি মেলার আয়োজন করেছি। ভিন রাজ্যে ৫৮টি মেলা এবং বিদেশে ১০টি মেলায় আমাদের শিল্পীরা অংশ নিয়েছে। মোট ৯৪০৭৭ জন হস্তশিল্পী মেলাগুলিতে অংশ নিয়েছেন। যাতে করে ৫৮৯ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা বাংলার হস্তশিল্পীদের ঘরে ঢুকেছে।’ মন্ত্রী আরও জানান, আমরা এই বিক্রির পরিমাণ বাড়াতে বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছি। তার মধ্যে অন্যতম ই-কমার্স। অর্থ্যাৎ অনলাইনেই যাতে বাংলার হস্তশিল্পীরা ঘরে বসে দেশ বিদেশে তাঁদের হাতে তৈরি সামগ্রী পাঠাতে পারেন। এর জন্য প্রাথমিকভাবে অ্যামাজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামীতে আরও আলোচনা হবে। হস্তশিল্পীদের কাছেও আমরা অনলাইন বাজার খুলে দেব।’ মন্ত্রী একইসঙ্গে আরেকটি বিষয়ের কথা বলেন। সেটি হল হস্তশিল্পের ডিজাইন বা নকশা। মানুষ সবসময় নতুন কিছু চায়। চাহিদা পূরণ করতে না পারলে পিছিয়ে পড়তে বাধ্য। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার দুটি কাজ সমান্তরাল ভাবে করে চলেছে, এক– হস্তশিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দুই– নতুন নতুন ডিজাইনের ধারণা দেওয়া। যার জন্য কলকাতার সল্ট লেকে সরকারিভাবে একটি ডিজাইন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা।

এদিন শিলিগুড়ির মেলার উদ্বোধন করতে দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তাজমুল হোসেন, বিশেষ সচিব দেবাশিস ব্যানার্জি, শিলিগুড়ির ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার থেকে অন্য সব আধিকারিকরা হাজির ছিলেন। এবারে শিলিগুড়ির মেলাতে ৪০০ জন শিল্পী যথারীতি এসে পড়েছেন। গতবার মেলায় এসেছিলেন ৫০৮ জন শিল্পী। বিক্রি হয়েছিল ৪ কোটি টাকার বেশি। মন্ত্রী তাজমুল হোসেন জানান, এবারে শিল্পী ও বিক্রির সংখ্যা গতবারকে ছাপিয়ে যাবে।












