কবিতা অধিকারী
‘ঠিকানা বদল’ প্রতিটি মানুষের জীবনের এক অনিবার্য ঘটনা। নিকোন উঠোন ছেড়ে বদ্ধ ফ্ল্যাট বাড়ি, ছন্দময় গ্রাম থেকে ঘিঞ্জি শহর, হৃদয় গ্রথিত স্বদেশ থেকে উচাটনের বিদেশ, ছেলেবেলার অবৈতনিক স্কুল ছেড়ে কোন্ সুদূরের ইউনিভার্সিটি, এক হৃদয় থেকে অন্য হৃদয়, অভাবী কলোনী ছেড়ে বিলাসী জীবন, আঁতুড় ঘর থেকে সাড়ে তিন হাত বাই সাড়ে তিন হাত কবরখানা– মানুষের ঠিকানা যে কতভাবে পাল্টাতে থাকে, আর সেই পাল্টে যাওয়া ঠিকানার সঙ্গে বদলে যায় তার চাওয়া পাওয়া, আবেগ অনুভূতি। সে এক আশ্চর্য সফরনামা। এই বদলের বাঁকে বাঁকে খুঁজে পাওয়া অমোঘ অনুভূতি শব্দে ধরে রাখাও একটা কঠিনতম কাজ। আর এই কাজটিই করেছেন উত্তরবঙ্গের এক তরুণ। নাম অগ্রদীপ দত্ত।

এই উত্তরের লেখালেখির জগতের মানুষেরা অগ্রদীপকে মূলত গদ্যকার হিসেবেই চেনেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, সেই সম্ভাবনাময় গদ্যকারের প্রথম প্রকাশিত বই হল কবিতার। ২০২৩ সালের উত্তরবঙ্গ বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ – ‘ঠিকানা বদল হওয়ার দিন’। রবিবার বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিনই শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন প্রজন্মের লেখক কবি সাংবাদিকদের হাত ধরে উন্মোচিত হল অগ্রদীপের প্রথম সন্তান। প্রকাশকও উত্তরের আরেক তরুণ প্রতিভা। তন্ময় বসাক। প্রকাশনীর নাম ‘শহরতলি’। উত্তরবঙ্গ বইমেলার ২৬ নম্বর স্টলে কিংবা লিটিল ম্যাগাজিন প্যাভেলিয়নের ‘উত্তরের কবিমন’ স্টলে পাওয়া যাচ্ছে এই অনিন্দ্য সুন্দর কাব্যগ্রন্থটি।
শিলিগুড়ি সাহিত্য আকাশের এক অনিবার্য নাম শুভময় সরকার। তরুণ কবি লেখকদের জড়িয়ে থাকা মানুষ। তিনি জানান,‘অগ্রদীপের লেখায় অন্যরকমের একটা ঝাঁঝ আছে। ওদের কাব্যভাবনা, গদ্য ভাবনা ভীষণ আধুনিক। ওদের লেখা দেখে মনে হয় আমরাই পিছিয়ে যাচ্ছি।’ আর অগ্রদীপের বইটি নিয়ে শিলিগুড়ির আত্মমগ্ন কবি শবরী শর্মা রায় বলছেন,‘ঠিকানা বদল নামটি অদ্ভুত ভাবে এসেছে এই বইয়ে। জন্ম থেকে শেষদিন পর্যন্ত বদল হতে থাকে আমাদের ঠিকানা, সেই বদলই এই বইতে তুলে এনেছে অগ্রদীপ। এত কম বয়সে এই কাজটি যে কীভাবে করেছে সেটাই একটা আশ্চর্য বিষয়। প্রতিটা স্মৃতি যেভাবে এসেছে, মায়ের কথা এসেছে, এসেছে কতরকম শোক, সেসব যে কবিতায় আনা যায়, ওর লেখা পড়ে বুঝতে পারি। বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি চলে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে এই বদলের ব্যপ্তি প্রসারিত হয়েছে। উঠে এসেছে বিশ্বব্যাপ্তির কথা। ছোট্ট ছোট্ট লাইনে এত ব্যপ্তি যে, সেসব ভোলার নয়। মনে হয় না প্রথম কাব্যগ্রন্থ। ভেতরে গভীর অনুভব, যা হল কবিতার প্রাণ।’
‘ঠিকানা বদল নামটি অদ্ভুত ভাবে এসেছে এই বইয়ে। জন্ম থেকে শেষদিন পর্যন্ত বদল হতে থাকে আমাদের ঠিকানা, সেই বদলই এই বইতে তুলে এনেছে অগ্রদীপ। এত কম বয়সে এই কাজটি যে কীভাবে করেছে সেটাই একটা আশ্চর্য বিষয়। প্রতিটা স্মৃতি যেভাবে এসেছে, মায়ের কথা এসেছে, এসেছে কতরকম শোক, সেসব যে কবিতায় আনা যায়, ওর লেখা পড়ে বুঝতে পারি। বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি চলে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে এই বদলের ব্যপ্তি প্রসারিত হয়েছে। উঠে এসেছে বিশ্বব্যাপ্তির কথা। ছোট্ট ছোট্ট লাইনে এত ব্যপ্তি যে, সেসব ভোলার নয়। মনে হয় না প্রথম কাব্যগ্রন্থ। ভেতরে গভীর অনুভব, যা হল কবিতার প্রাণ।’
এই বই প্রকাশ করতে পেরে খুশি প্রকাশক তন্ময় বসাক। তিনি জানান,‘শহরতলি প্রকাশনা থেকে দু’ফর্মার একটি পাতলা বই হয়েছে। অগ্রদীপ গদ্যকার হলেও কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটল। শহরতলীর ১০০ শিরোনামের বইয়ের মধ্যে অগ্রদীপের এই ছিপছিপে বইটা আমাদের শহরতলির একটা উল্লেখযোগ্য প্রয়াস হিসেবে থাকবে।’
এটুকু বলতে পারি অগ্রদীপ দত্তের কাব্যগ্রন্থটি পড়লে আপনি আপনাকে খুঁজে পাবেন। তরুণদের এই যে সাধনা, সেটাকে উৎসাহিত করতে হলেও বইটি আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বইটি কিনলে আপনার উপরি পাওনা হবে স্বয়ং কবির সঙ্গে সাক্ষাৎ। বই কেনার পাশাপাশি কবির সঙ্গে কথোপথন করার মতো বাড়তি প্রাপ্তি হবে।












