দুরন্ত প্রতিবেদন: লোনক হ্রদ ফেটে তিস্তায় হড়পা বান আসায় কার্যত বিধ্বস্ত হয়েছে উত্তর সিকিম। তবে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়নি বাংলার পাহাড়ি এলাকাও। কালিম্পঙের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ ঘরদোর হারিয়েছেন। পুজোর মুখে তাঁদের ঠিকানা এখন ত্রাণ শিবির। তবে পঞ্চমীতে খুশির খবর দিয়েছেন জিটিএ প্রধান অনীত থাপা। শুরু করেছেন ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নতুন গৃহ নির্মাণ। জানান,‘তিস্তার ধ্বংসলীলায় যাদের ঘরদোর নদীর গর্ভে চলে গেছে কিংবা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে, তাদের জন্য বাড়ি নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘তিস্তা নতুন গৃহ প্রকল্প’। এই প্রকল্পে যত বাড়ি তৈরি হবে, সমস্ত একই মডেলে বানানো হবে। মডেল ঘরে থাকে দুটি কক্ষ, রান্নাঘর ও টয়লেট।’ অনীত থাপার ঘোষণা তিস্তাপাড়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মোটের ওপর এবারের পুজোয় সার্বিক আনন্দ নেই উত্তরবঙ্গের বিশেষত তরাই ও ডুয়ার্স এলাকায়। সিকিম বিপর্যয়ের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে শিলিগুড়ি তথা লাগোয়া এলাকার পুজোর বাজারেও। সব মিলিয়ে ন্যুনতম ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি এমনিতেই হয়ে গেছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। সবজি বাজারের ক্ষতি হিসেব করলে অঙ্কটা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, যে কোনও উৎসবেই শিলিগুড়িতে বাজার করতে ভিড় করেন সিকিম, দার্জিলিং, কালিম্পং এমনকি নেপালের অনেক এলাকার মানুষ। যাদের জন্য শিলিগুড়ির বাজারে পা ফেলার জায়গা থাকে না। সিকিম বিপর্যয় এবং তার জেরে যোগাযোগ নষ্ট হওয়ায় এবারে পুজোর বাজারে সেই ভিড়ই দেখা যায়নি। শিলিগুড়ি বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বাপি সাহা জানান,‘এবারে বিধান মার্কেটের কাপড়ের ব্যবসায়ীরা নিরাশ। বিক্রি প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। আমরা নিজেরাও সেটা অনুধাবন করছি।’ ফেডারেশন অফ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, নর্থবেঙ্গলের সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস জানান,‘সিকিম থেকে দার্জিলিং শিলিগুড়ির বাজারের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। শিলিগুড়ি থেকে যেমন রোজ ট্রাকে ট্রাকে সবজি ওঠে, তেমনি অন্যান্য সামগ্রীও এখান থেকেই পাহাড়ে যায়। ফলে সেই পাহাড়ের যোগাযোগ বন্ধ থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়। এবারে তা অন্যথা হয়নি। আর ক্ষতির পরিমাণ রোজ বাড়ছে। রাস্তা ঠিক না হলে সমস্যা বাড়বেই।’ জানা গেছে, শিলিগুড়িতে ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় ৯৪টি বাজার রয়েছে। রোজ কমপক্ষে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি এমনিতেই হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

শিলিগুড়ির চাষিদের অর্কিডের স্বপ্ন দেখাচ্ছে উদ্যানপালন দপ্তর

‘ডলি চায়ওয়ালা’র পাশে চা বানাবে ‘নেতাজি কেবিন’

শিল্পে জোয়ার আনতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ ঘোষণার দাবি

ক্রেশ নাকি গোয়ালঘর ! কেন্দ্রকে তোপ ঋতব্রতর

‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ গড়বে ‘Daikin’ শিলিগুড়িতে নিঃখরচায় কারিগরি প্রশিক্ষণ

৯ বছরে ৬০০ কোটি টাকা ঢুকেছে বাংলার হস্তশিল্পীদের ঘরে, জোর দিচ্ছে ই–কমার্সে

চাঁদের আলোয় চা–পাতা তুলল মাঝেরডাবরি

চা–মজুরি নিয়ে মিথ্যাচার! কড়া জবাব কেশবরাজের

শিলিগুড়িতে প্রথম খাদি মেলায় বিক্রি ৭০ লক্ষ, স্থায়ী খাদি আউটলেট শিগগিরই



