দুরন্ত প্রতিবেদন
শিলিগুড়ি, ১৪ অক্টোবর
লোনক হ্রদ ফেটে উত্তর সিকিম বিধ্বস্ত হতেই সিকিম সরকার সটান জানিয়ে দিয়েছিল কোনও পর্যটক যেন আপাতত সিকিম ভ্রমণে না আসেন। কিন্তু এই দিন কয়েকের মধ্যেই অবস্থান বদল করেছিল সিকিম সরকার। দক্ষিণ ও পশ্চিম সিকিমে পর্যটকদের আমন্ত্রণ জানাতে রীতিমত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। শুক্রবার ফের সিকিমের পর্যটন দপ্তর উত্তর সিকিম বাদে বাকি সমস্ত স্থানে পর্যটকদের আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্য পর্যটন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ১৭ অক্টোবর থেকে ছাঙ্গু ও নাথুলা যাবার পারমিটও দেওয়া শুরু হবে। বিধ্বস্ত উত্তর সিকিমের ধাক্কা সইতে হচ্ছে বটে, তবে তার জন্য গোটা রাজ্যের পর্যটনে তার প্রভাব যাতে না পড়ে সে বিষয়ে ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছে। শিলিগুড়ি থেকে সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক নিয়ে আপাতত ভাবছে না পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কারণ এই রাস্তা পুজোর মরসুমে ঠিক হবার কোনও সম্ভাবনাই নাই। আপাতত কালিম্পঙের গরুবাথান, লাভা ও দার্জিলিঙের জোরথাং হয়ে যে বিকল্প রুটগুলি আছে সেদিক দিয়েই পর্যটক পাঠানোর পরিকল্পনা ঠিক হয়েছে। ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশিস মৈত্র জানান,‘যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তারা সিকিম ভ্রমণ বাতিল করছেন না। আমরা অনেক ফোন পাচ্ছি। বুকিংও করা হচ্ছে। তবে দক্ষিণ সিকিমে বেশি আসছেন। বাকি পর্যটকের চাপ এবারে দার্জিলিংকেই নিতে হবে। আমার যা হিসেব তাতে বুকিং করে না এলে পুজোর দার্জিলিঙে এবারে হোটেল পাবেন না পর্যটকরা।’ দার্জিলিং হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজয় খান্না জানান,‘১৫ দিন আগেও বোঝা যাচ্ছিল না কতটা ভিড় হবে। কিন্তু এখন রোজ চাপ বাড়ছে। বেশিরভাগ হোটেলের রুম শেষ। আগাম বুকিং না করে এলে এবারে সমস্যা হবে বলেই মনে হচ্ছে। সিকিমের অনেক পর্যটক এবারে দার্জিলিঙের দিকে আসছেন।’ অন্যদিকে এবারে ডুয়ার্সের লাটাগুড়ি, গরুবাথান, মূর্তি, চালসার দিকেও বেশ ভিড় হবার সম্ভাবনা। ইতিমধ্যে ভাল হোটেল কিংবা হোমস্টে খালি নেই। ডুয়ার্সে এক দুদিন কাটিয়েও অনেকে সিকিম সফর করবেন। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল জানান,‘সিকিম বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে। রাজ্যের ভেতরের রাস্তা মেরামতি করে যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক করা হয়েছে। উত্তর সিকিমেও সেনা ও আইটিবিপি বাঁশ কাঠের সেতু দিয়ে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলি জুড়তে রাতদিন সচেষ্ট। সেইসঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়া কাদা ও জল পরিস্কার করতে মিশন মোডে কাজ হচ্ছে।’






