বৃহস্পতিবার চা-বাগানের দ্বিতীয় বোনাস বৈঠক ভেস্তে যেতেই চা-বলয়জুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল চা-বাগান শ্রমিক ইউনিয়ন। কলকাতা থেকেই নির্দেশ এসেছিল উত্তরবঙ্গের চা-বাগানগুলিতে। শুক্রবার সকাল থেকে চলছিল বৃষ্টি। কলকাতার বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়া নেতারা উত্তরবঙ্গে পৌঁছানোর আগেই তরাই-ডুয়ার্সের প্রচুর চা-বাগানে গেট মিটিং শুরু হয়ে যায়। মাথায় ছাতা নিয়ে, কেউ কেউ ভিজে ভিজেই নিজেদের ন্যায্য পাওনার দাবিতে সোচ্চার হন। শিলিগুড়িতে নেমেই দার্জিলিং জেলা তৃণমূল চা-বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নির্জল দে জানান,‘শুক্র ও শনিবার সমস্ত চা-বাগানে গেট মিটিংয়ের ডাক দিলেও আমরা সঠিকভাবে বোনাস না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলব শ্রমিকদের। মালিকদের এমন মনোভাব মেনে নেওয়া যায় না।’ এদিন দেখা গেল নিউ ডুয়ার্স চা-বাগানে বৃষ্টিকে পরোয়া না করেই বোনাসের দাবিতে গেট মিটিংয়ে সরব সকলে।
উল্লেখ্য, বিগত তিন বছর ধরে ২০ শতাংশ হারে বোনাস হয়ে আসছে। তার আগেও যথাক্রমে ১৮.৫ ও ১৯.৫ শতাংশ হারে বোনাস হয়েছে। অথচ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি যখন চরম আকার নিয়েছে, সেই সময় মালিকপক্ষ ৮.৫ শতাংশ হারে বোনাস দেবে বলে প্রস্তাব রেখেছে। প্রথম বৈঠকে ৮.৩৩ শতাংশ হারে বোনাস দেবার কথা বলায় বৈঠক ভেস্তে গিয়েছিল। দ্বিতীয় বৈঠকে একটা যুক্তিগ্রাহ্য প্রস্তাবের আশা করলেও দেখা যায় মাত্র .২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এতে করে শুধু তৃণমূল নয়, উত্তরের সমস্ত চা শ্রমিক সংগঠন ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়ে। যদিও মালিকদের যৌথ সংগঠন কনসালটেটিভ কমিটি অফ প্ল্যান্টেশন অ্যাসোসিয়েশন (সিসিপিএ) এর তরফে বলা হয়েছে চা বলয়ের ঐতিহ্য মেনেই বোনাস চূক্তি স্বাক্ষরিত হবে। কিন্তু যেভাবে বোনাস প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, তাতে যে কোনও ঐতিহ্য রক্ষার ন্যুনতম চেষ্টা নেই, সেটা তুলে ধরছেন শ্রমিক সংগঠনগুলি।






