কবিতা অধিকারী
সূর্য তখন অস্তগত। নেমে এসেছে রাতের আঁধার। ধীরে ধীরে ফুটল চাঁদের আলো। আর সেই আলোয় উৎসব আনন্দের মধ্যে দিয়ে মহিলা চা-শ্রমিকরা তুলতে শুরু করলেন চা-পাতা। সূর্য ডোবার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলল এই চা-পাতা তোলার কাজ। তারপর চাঁদ আকাশে থাকাকালীনই সেই পাতা গেল চা-কারখানায়। সেখানে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তৈরি হল চা। ২৭ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে এই ‘মুনলাইট টি–প্ল্যাকিং’ চলল আলিপুরদুয়ার জেলার মাঝেরডাবরি চা-বাগানে। চা-বিশেষজ্ঞদের কথায় পূর্ণিমায় পরিস্কার চাঁদের আলোয় তোলা চা-পাতা থেকে সুগন্ধি সিটিসি চা তৈরি হয়। যার বাজারমূল্যও অনেক। এই চা মূলত বিদেশের বাজারে পাঠানোর জন্যই তৈরি করা হয়।
প্রায় এক মাস আগে থেকে এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছিল মাঝেরডাবরি কর্তৃপক্ষ। বাগানের প্রায় ১০০ হেক্টর জমিকে বেছে নেওয়া হয়। প্রায় ২৫০ জন মহিলা চা–শ্রমিক রীতিমতো সেজেগুজে এসে এদিন পাতা সংগ্রহ করেছেন। এই মুহূর্তে আলিপুরদুয়ার জেলায় একমাত্র মাঝেরডাবরি চা–বাগান ‘মুনলাইট টি–প্ল্যাকিং’ করছে। শুক্রবার বাগানে পূর্ণিমার আলোয় চা–পাতা তোলার দৃশ্য উপভোগ করেছেন পর্যটকেরাও। বাগানের তরফেও বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। মশালের আলোয়, আদিবাসী নৃত্যের মাধ্যমে রাতের বেলা এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বাগানের ভেতর।
বছরে তিনবার ফার্স্ট, সেকেন্ড ও অটাম ফ্লাশের সময় পূর্ণিমার আলোয় চা–পাতা তোলা সম্ভব। আর এই তিনটি দিনে গত চার বছর ধরে ‘মুনলাইট প্ল্যাকিং’ এর জন্য বেছে নিচ্ছে মাঝেরডাবরি। চা–বাগানের ম্যানেজার চিন্ময় ধর বলেন, ‘এমন কিছু ফুল আছে যা রাতের বেলা সুগন্ধি ছড়ায়। দিনের বেলা সেই গন্ধ মেলে না। ঠিক তেমনই পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চা–গাছের নির্দিষ্ট অংশ থেকে পাতা তোলা হলে তার সুগন্ধ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায় চা–পাতাতে। প্রথাগত সিটিসি চায়ের তুলনায় এই চায়ের পানীয় গুণ অনেকটাই বেশি। মানুষের শরীরের জন্য উপকারি খনিজ পদার্থের উপস্থিতি থাকে চা–পাতায়।’ সাধারণত চা–বাগানে দিনের বেলায় চা–পাতা তোলা দস্তুর। পাহাড়ের কিছু বাগানে ‘মুনলাইট প্ল্যাকিং’ হয়। এবার চতুর্থ বছর ‘মুনলাইট প্লাকিং’ এর ব্যবস্থা করেছে মাঝেরডাবড়ি। চিন্ময় ধর বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এই বিশেষ চা–পাতা শুধু দেশের বাজার নয়, বিদেশের বাজারে নিয়ে যাওয়া।’












