হেলথ-‌কেয়ার

কোটি কোটি টাকার জাল ওষুধ ঢুকছে উত্তরবঙ্গে

সেপ্টেম্বর 24, 2023

গোটা দেশজুড়ে চলছে জাল ও নিম্নমানের ওষুধের কারবার। এই অভিযোগ খোদ ওষুধ ব্যবসায়ীদের। একই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেলস অ্যান্ড মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন। এই কারবার শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের আনাচে কানাচেও ছড়িয়েছে। একই অভিযোগ ‘শিলিগুড়ি বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’এর। শুধু অভিযোগ নয়, রীতিমত আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা এই জাল ওষুধ আটকাতে এদিন শিলিগুড়ির বিভিন্ন সংগঠন, এনজিও এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন। তাঁরা মূলত সকলের থেকে পরামর্শ নিলেন কীভাবে এই জাল কারবার আটকানো যায়। কিন্তু নকল ওষুধ এতটাই নিঁখুত ভাবে তৈরি করা হচ্ছে যে, সহজে প্যাকেট দেখে চেনার উপায় থাকছে না। সেই সঙ্গে জাল ওষুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজ্যে একটাই ল্যাবেরটরি রয়েছে। ফলে গোটা রাজ্য থেকে নমুনা গেলে তার রিপোর্ট আসতে বছর ঘুরে যাচ্ছে। আবার এদিনের আলোচনাতেই উঠে এল যে, সব ওষুধ জাল নয়, কিছু ওষুধের মান নিম্ন। খরচ কমাতে ওইভাবে ওষুধ বানিয়ে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। ফলে সেই ওষুধ ল্যাবে পরীক্ষা ছাড়া আটকানো অসম্ভব। অথচ এই কারবার বন্ধ না হলে মানুষের জীবন আরও সংশয়ের মধ্যে পড়বে। ‘শিলিগুড়ি বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ এর সম্পাদক বিজয় গুপ্ত জানান,‘‌এভাবে কারবার চলতে থাকলে একসময় জাল ওষুধের ভিড়ে আসল ওষুধই খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।’‌ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেটা দেওয়া হয়েছে, তা হল জেনেরিক ওষুধ জাল হচ্ছে না সেভাবে। মূলত নামী কোম্পানির ওষুধই জাল করে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এতে করে বিপুল লাভের সুযোগ রয়েছে। ওষুধ ব্যবসায়ীদের তরফে কিছু প্রস্তাব হিসেবে বলা হয়, ১)‌ আমরা উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায় না হলেও অন্তত শিলিগুড়িতে আরেকটি ল্যাবরেটরি চাইব। যাতে এই এলাকার নমুনা দ্রুত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠানো হবে। ২)‌ শহরজুড়ে জাল ওষুধ থেকে সাবধান হতে মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং, প্রচারপত্র বিলি করা হবে। ৩)‌ সচেতনতামূলক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এবং ৪)‌ কেন্দ্রীয় সরকারকে ওষুধ কারখানাগুলিকে নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলতে হবে। পাশাপাশি অনেকে দুর্গাপূজায় মন্ডপে মন্ডপে প্রচার থেকে শহরের সব সংগঠনকে নিয়ে সেমিনার করার প্রস্তাবও দিয়েছেন। সেসব নিয়ে ভাবনা চলবে। এদিন বিসিডিএ’‌র অমিতাভ সাহা, দিনেশ জয়সওয়াল, উদ্যোগপতি সংগঠনের সুরজিৎ পাল, বার অ্যাসোসিয়েশন, লিগ্যাল এইড ফোরাম সহ নানা সামাজিক সংগঠনের কর্মকর্তারা হাজির ছিলেন। ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের তরফেও এই বিষয়টি উড়িয়ে দেননি কেউ। এসব আটকাতে তারা ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছেন বলেও জানান।

Leave the first comment